গুরুমহারাজ: দ্যাখো, এসব কথা আমি আগে অনেকবার বলেছি! সাধু সন্ত রা কখনো ভন্ড হয় না আবার যারা ভন্ড তারা কখনোই সাধু সন্ত নয়! এই দুটোতে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। প্রকৃত সাধু_সন্ত কে কখনো ঘাঁটানো উচিত নয়, কিন্তু সাধুর বেশে কেউ ভণ্ডামি করলে প্রতিবাদ করবে বই কি! যেখানে অন্যায়, ভণ্ডামি দেখবে সেখানে প্রতিবাদ করা তো একজন যুবকের কর্তব্য! এখানে যারা নিয়মিত আসে, আমার কথা বার্তা শোনে, তাদের_অর্থাৎ আশ্রমের দীক্ষিতদের_অধিকাংশই “সত্যের স্বরূপ কি”- এটার একটা conception তৈরী হয়ে গেছে। হয়তো সাধনার অভাবে, নিষ্ঠার অভাবে তাদের perception হয়নি! কিন্তু ঐ যে conception হয়েছে, এটাও কম কিছু নয়! বহু সাধকের জীবন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে_ অনেক সাধনার ফলে সত্যের ধারণা তৈরী হয়, কিন্তু এখানে(বনগ্রামে) অত পরিশ্রম করতে হয় না! কিছুদিন এখানকার আলোচনা শুনলেই সত্যের ধারণা হয়ে যায়! আর সত্যের ধারণা তৈরী হলে আত্মবিশ্বাস এবং আত্মশক্তি জাগ্রত হয়। ফলে যেখানেই সত্যের অপলাপ হবে বা সত্যকে বিকৃত করার চেষ্টা করা হবে, সেখানেই পরমানন্দ মিশনের ভক্তরা গর্জে উঠবে!
এখন তো দেখছি তারা[এখানকার ভক্তরা] so-called সাধু সন্ন্যাসীদের কাছে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে! ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে পরমানন্দ মিশনের ভক্তরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অনেকেই এসে ভেকধারী সাধুর বুজরুকি ভাঙার গল্প করে! তবে এমনও দেখা যায় – বহু সাধু সন্ন্যাসী আছে, যারা আধ্যাত্মিক পথে ত্যাগ বৈরাগ্য নিয়েই শুরু করেছিল, সাধন ভজন করে কিছু উন্নতিও করেছিল – পরে মোহান্ত বা মণ্ডলেশ্বর হয়ে আর মাথা ঠিক রাখতে পারছে না, গোলমাল করে ফেলছে!
আমাদের আশ্রমের কিছু ভক্ত রয়েছে মিরাটে। ওদের মধ্যে চন্ডোলা পরিবারে কিছুদিন আগে এইরুপ একটা ঘটনা ঘটেছে। বৃন্দাবন থেকে একজন বৈষ্ণব বাবাজী “রাধাভাবে সাধনা করেন”- এমন পরিচয় দিয়ে চন্ডোলাদের পাড়ায় কোন বাড়িতে এসেছিলো। পরিবার টি হয়তো ঐ বাবাজী বা তাদের পরম্পরার ভক্ত। চন্ডোলারা আমার কাছে ‘রাধাভাবের সাধন’ সম্বন্ধে কিছু কথা শুনেছিল, ফলে ওদের একটা ধারণা তৈরী হয়ে গিয়েছিলো। বাবাজীর মুখে সেসব কথা না শুনতে পেয়ে ওরা এমনিতেই তার ওপর খানিক বিরক্ত ছিল। পরে যখন শুনলো বাবাজী বলছে যে তার রাধা ভাবের সাধন করতে করতে শরীরটা নারী শরীর হয়ে গেছে -নারীর মতো সব কিছুই হয়। তখন পরীক্ষা করার জন্য ওরা বৈষ্ণব বাবাজীকে অনুরোধ করে যে সেই রাত্রে যেন সে চন্ডোলাদের বাড়িতে রাত্রি কাটায়। চন্ডোলাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো, ওদের family র বেশিরভাগ লোক বিড়লা কোম্পানি তে বড় বড় পোস্ট এ চাকরি করতো। সন্ধ্যের পর অফিস থেকে ফিরে ওরা বাবাজীকে নিজেদের বাড়ী নিয়ে এসেছিলো। রাত্রে আলাপের সময় কথায় কথায় নারী ভাবের সাধন বা রাধা ভাবের সাধন সমন্ধে কথা শুরু হলো। ওরা বাবাজী কে উৎসাহিত করার জন্য বলেছিলো আমাদের গুরুদেবের মুখে শুনেছি এই সাধন করলে নাকি শরীরেও নারী ভাব আসে এবং বাবাজীকে জিজ্ঞাসা করে ‘তারও কি এসেছে’? বাবাজী অগ্র পশ্চাৎ বিবেচনা না করে ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছে। বাবাজী আরও মারাত্মক কথা বলেছিলো যে বর্তমানে সে রজস্ব:লা। তাই বাড়ির মহিলারা যে latrine ব্যবহার করে ওকে যেন সেটাই ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। আর যায় কোথায়! পামি[ঐ বাড়ির ছেলে] চন্ডোলা তখন young! সে রাতে সবাই শুয়ে পড়ার পর ও বাবাজীকে ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বলেছিলো “খোল কাপড়”! তুমি সত্যিই রজস্বলা কিনা প্রমান দেখাও! প্রথমটায় বাবাজী অভিশাপ দেবার বা অন্য আরও নানারকম ভয় দেখিয়েছিলো – কিন্তু পামি দমে যায়নি। বলেছিলো “আমার গুরুদেব আছে -সে আমাকে রক্ষা করবে। তুমি যখন বলেছো তুমি রাধা ভাবে সিদ্ধ আর তোমার মধ্যে নারীত্বের প্রকাশ ঘটেছে – তুমি তার প্রমান দেখাও!”
এইবার সাধু কাচু মাচু করতে শুরু করেছে! শেষে পামিকেই হাতজোড় করে বলেছিল “আমাকে ছেড়ে দাও ওসব মিথ্যা কথা! আমার ওসব কিছু হয় না, তবে এটা সত্যি বলছি যে বৃন্দাবনে থেকে আমি এইভাবে সাধন ভজন করি।” পামি বলেছিল “তুমি মিথ্যা বললে কেন?” ও বলেছিলো – এই সব বললে নাকি ভালো টাকা প্রণামী পাওয়া যায়- তাই বলেছে। পামিরা ওকে দিয়ে promise করিয়ে নেয় – যাতে সে আর কখনোই ওই অঞ্চলে না আসে, তারপর বাবাজীকে সেই রাত্রেই স্টেশনে নিয়ে গিয়ে বৃন্দাবনের টিকিট কেটে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে এসেছিলো। সাধু সন্ন্যাসীর পোশাক পরে বুজরুকি করলে, মিথ্যা বললে এই রকম ই দশা হবে।