গুরুমহারাজ:–কি অর্থে বলছ? তুমি কি পরীক্ষার খাতায় বাংলা রচনা লিখবে না সত্যি সত্যি জানতে চাইছ? দ্যাখো,তুমি নিজে কি অনুভব কর? বেশির ভাগ মানুষ এখানে আসে,_এসে দেখে একজন কথা বলা পুতুল যখন রয়েছে তখন তাকে দিয়ে কিছু কথা বলাও। সাধারণত পাঁচ ধরনের মানুষ এখানে আসে, অর্থ-অর্থাথী-জিজ্ঞাসু-জ্ঞানী-প্রেমিক। তবে বেশির ভাগই আর্ত আর অর্থাথী অর্থাৎ তারা বিভিন্ন রোগ ব্যাধির কথা বলে অথবা ছেলে মেয়ের পড়াশোনা,তাদের বিবাহ, অর্থনৈতিক নানান সমস্যা, স্বামীর চাকরির প্রমোশন টা হবে কিনা -এই সবের সমাধান জানতে আসে।জিজ্ঞাসু বলতে__ ‘অথাথ ব্রহ্ম জিজ্ঞাসা’ যিনি করেন, জীবন রহস্য_জগৎ রহস্য বা আধ্যাত্মিক রহস্য সম্বন্ধে জানার আকাঙ্খা যার রয়েছে সেই প্রকৃত জিজ্ঞাসু। অন্ততঃ বিজ্ঞান,দর্শন বা প্রাকৃতিক রহস্যের বিষয় জিজ্ঞাসাও বুদ্ধি চর্চার মধ্যে পরে, তাই এগুলিও ভালো ।কিন্তু নিছক জিজ্ঞাসা করার জন্য জিজ্ঞাসা -এটা খুব ই গর্হিত কাজ। দেখছি এই ধরনের লোক ও এখানে কম আসে না, এরা ওই পাঁচ প্রকারের বাইরে।
টেলিভিশন দেখার সুফল-কুফল ইত্যাদি নিয়ে অনেক আলোচনা সমাজে রয়েছে। তবে আমি একদিন টানা ১৪ ঘন্টা টেলিভিশন দেখে -শরীরের ওপর এর কি কি reaction হয় তা দেখেছি! এখন তো সাদা-কালো T .V উঠে যাচ্ছে-রঙিন টেলিভিশন এসে গেছে। রঙিন টেলিভিশন বেশিক্ষণ দেখলে চোখের ওপর খুব strain পরে। পর্দা থেকে বিচ্ছুরিত আলোক তরঙ্গগুলি এতো fluctuate করে, এতো দ্রুত কম ও বেশি আলোক তরঙ্গ চোখের ওপর পরে, যে চোখের সহজতা বা স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়।ফলে চোখের ওপর এক সাংঘাতিক প্রতিক্রিয়া পরে। চোখের নার্ভ গুলো যেহেতু brain cell -এর সঙ্গে যুক্ত, ফলে brain cell_গুলিও exited হয়ে পরে, এতে ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে, সহজে ঘুম আসবে না। তাই একটানা দীর্ঘক্ষণ T. V দেখলে_এটি অনিদ্রার একটা কারণ হতে পারে। তবে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব maintain করলে বা এক ধরনের পর্দা যা আলোক তরঙ্গ অভিঘাত কে অনেকটা আটকায় -সেগুলি ব্যবহার করলে অনেকটা Relief পাওয়া যায়।
এছাড়াও T. V_দেখার অন্য কিছু অসুবিধার কথা বলছি। বিভিন্ন serial বা film অথবা খবরের ঘটনা সমূহ মন বা শরীরে একটা প্রভাব ফেলে। যে কোনো সুখ বা দুঃখের ঘটনার সাথে মানুষ T .V দেখার সময় নিজেকে ঘটনার সাথে বা চরিত্রের সাথে লিপ্ত করে ফেলে। ফলে হাসির ঘটনা দেখলে হেসে ওঠে বা দুঃখের দৃশ্য দেখে দুঃখিত হয় বা কেঁদে ফেলে।
আবার ভয়ঙ্কর দৃশ্য বা মারপিটের দৃশ্যে মানুষের শ্বাস প্রস্বাস এলোমেলো হয়ে যায়, উত্তেজিত অবস্থা প্রাপ্ত হয়।এই ভাবে heart -এর ওপর এর একটা প্রভাব পরে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যারা একটানা অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে T .V দেখে, তাদের heart এর রোগ দেখা দিতে পারে। ঐ জন্যই যাদের heart দুর্বল তাদের উত্তেজনাপূর্ণ খেলাধুলা,মারপিট, horror বা exiting ফিল্ম বা দৃশ্যাদি না দেখা উচিত।যে কোনো সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে-অর্থাৎ ঐরূপ ব্যক্তির আকস্মিক ভাবে heart- attack ,এমনকি মৃত্যু-ও ঘটে যেতে পারে!
এছাড়া শরীরে আরও অনেক রকমের প্রভাব পরে_ জানো! আমি দেখেছি, টেলিভিশন পর্দায় ফুটিয়ে তোলা ঘটনার সুখ,দুঃখের অনুভূতি শরীরের এন্ডোক্রিন গ্রন্থিগুলি থেকে নিঃসৃত হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলছে, বিশেষত পাচনগ্রন্থির ক্রিয়া বিঘ্নিত হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ চুপ চাপ বসে থাকার ফলেও খাদ্য -হজম কম হয়। এইভাবে abdomen -এর ওপর দীর্ঘক্ষণ T .V দেখার একটা কুফল রয়েছে -দেখলাম। সুতরাং শরীরের নানা অংশের ক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে বেশিক্ষণ T .V দেখলে! তবে একটু আধটু দেখলে তা শরীরে এমন কিছু প্রভাব ফেলতে পারে না।
শরীরের ও সহ্য করার একটা ক্ষমতা রয়েছে। কোনো স্থানে অল্প স্বল্প আঘাত এলে শরীর কিছুক্ষণ এর মধ্যেই তা আবার স্বাভাবিক করে ফেলে। কিন্তু বারবার আঘাত করতে করতে প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট যখন হয়ে যায় তখন ই শরীরের ঐ অংশের ক্রিয়াশীলতা কমে যায় বা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও ঐরকমই হয়।